বিছানায় মায়ের সঙ্গে ফুপাকে দেখে ফেলায় খু’ন!

মায়ের সাথে আপন ফুপাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে ছেলে রয়েল। আর দেখা ফেলার কারণে পৃথীবি ছাড়তে হলো রয়েলকে। পথের কাটা দূর করতেই মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে কোমল পানীয়র সঙ্গে ঘুমের বড়ি খাইয়ে অজ্ঞান করার পর গেঞ্জি দিয়ে শ্বা’সরোধে হ’ত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় তাকে।

হ’ত্যাকাণ্ডের প্রায় এক সপ্তাহ পরে ঘাত’ককে গ্রেফতারের পরই পুলি’শের কাছে এমন স্বীকারোক্তি দিয়েছেন পাষণ্ড ফুপা আমান উল্লাহ নিজেই।জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়নের ছাওয়াল পাড়া গ্রামের বাসিন্দা দিন মজুর বকুল হোসেনের ছেলে স্থানীয় হরিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র রয়েল দিন দশেক আগে সন্ধ্যার পর হঠাৎ নিখোঁ’জ হয়। এরই মধ্যে পহেলা জুলাই জয়পুরহাটের বানিয়াপাড়া কামিল মাদ্রাসা এলাকার তুলশীগঙ্গা নদী থেকে অর্ধগলিত একটি অজ্ঞাত মরদেহ উ’দ্ধার করে পুলি’শ।

এদিকে নিখোঁজ হওয়া রয়েলের মুঠোফোনের সূত্র ধরে মঙ্গলবার তার আপন ফুপা ট্রাক চালক আমান উল্লাহকে আট’ক করে পুলি’শ। আট’ক আমান উল্লাহ সদর উপজেলার কড়ই মালো পাড়া গ্রামের মৃত গোলজার হোসেনের ছেলে।

আটকের পর আমান উল্লাহ পুলি’শকে বলেন, তার মায়ের সাথে আপ’ত্তিকর অবস্থা দেখে ফেলে রয়েল। এ ঘটনা সে তার বাবাকে বলে দিলে ওই বাড়িতে যেতে নিষেধ করা হয়। আর এই ক্ষোভের জের ধরেই পথের কাটা ভেবে তাকে হ’ত্যা করে নদীতে ফেলে দিয়েছিলাম।

হ’ত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে ঘাত’ক আরও বলেন, জয়পুরহাট শহরে ঘুরে বেড়ানোর জন্য মোবাইল ফোনে তাকে ডেকে নেই। এরপর হিচমী বাজার থেকে দুটি কোল্ড ড্রিংকস কিনি এবং কড়ই মাদ্রাসা পাড়া এলাকার একটি ফার্মেসী থেকে ঘুমের ওষুধ কিনে সেগুলোর একটিতে মিশ্রণ করি। এরপর তাকে খাওয়ায়ে অজ্ঞান করার পর তার পড়নের গেঞ্জি দিয়েই তাকে শ্বাসরোধে হ’ত্যার পর নদীতে ফেলে দেই।

তবে এ অভি’যোগটি মানতে নারাজ রয়েলের বাবা বকুল হোসেন। তিনি জানান, আমার স্ত্রী নিরপরাধ। আমান উল্লাহ আমার ভগ্নীপতি হলেও গত ৩ বছর পূর্বে সে আমার বোনকে ডিভোর্স দিয়েছে। আমার বোন বর্তমানে একটি সন্তান নিয়ে ঢাকার একটি গার্মেন্টসে চাকুরী করে। তবে তার একটি সন্তান আমাদের বাড়িতে থাকায় মাঝেমধ্যে আমান উল্লাহ আসা যাওয়া করতো। তিনি অভি’যোগ করে বলেন, আমার সন্তানকে মে’রে ফেলে আমার ৬ শতক বাড়ি ভিটা লিখে নেওয়ার লোভেই সে এই হ’ত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় স্বজন ও প্রতিবেশীরা দৃ’ষ্টান্ত মূলক বি’চার দাবী করেছেন।

এদিকে, জয়পুরহাটে দিন দিন শিশুসহ বিভিন্ন হ’ত্যাকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনের কর্মীরা। এ বিষয়ে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন জয়পুরহাট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম জানান, হ’ত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রে’প্তার করে আই’নের আওতায় এনে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এ ব্যাপারে জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহরিয়ার খাঁন বলেন, অভিযুক্ত আসামি আমান উল্লাহ নিজেই এ হ’ত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। সে জানিয়েছে-রয়েলের মায়ের সাথে আপত্তিকর দৃশ্য দেখে ফেলায় তাকে হ’ত্যা করা হয়েছে। আর তার দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী নিহ’ত রয়েলের মা পান্না বেগমকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থা’না হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহ’তের বাবা বাদী হয়ে আমান উল্লাহকে আসামি করে থা’নায় একটি হ’ত্যা মাম’লা দায়ের করেছেন। এ হ’ত্যাকা’ণ্ডের সাথে আর কারা জড়িত আছে, তা গুরুত্বের সাথে তদ’ন্ত করা হচ্ছে বলেও জানান ও’সি।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *